জর্জিয়া বিএনপির কাউন্সিল বর্জনকারী দুই নেতার প্রতিবাদ লিপি

309

বাঙালির প্রবাস ডেস্কঃ গত ৮ ডিসেম্বর তারিখে অনুষ্ঠিত জর্জিয়া বিএনপি’র কাওন্সিল বর্জন করে দলের একটি অংশ পুরো অধিবেশন ও নির্বাচনী প্রক্রিয়া থেকে বিরত ছিলো বলে নির্ভরযোগ্য সুত্রে জানা গেছে। কাওন্সিল বর্জনকারী ওই গ্রুপের দুই নেতা পুর্ববর্তী কমিটির সিনিয়র সহভাপতি মোহন জাব্বার ও সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ রহমান আজাদ সদ্য সমাপ্ত দলীয় নির্বাচনকে প্রত্যাখান করে উক্ত নির্বাচনকে দলের একাংশের নির্বাচন বলে আখ্যায়িত করে পৃথক পৃথক প্রতিবাদ লিপি প্রেরণ করেছেন।

জাব্বার মোহন

মোহন জাব্বার তাঁর প্রতিবাদ লিপিতে বলেন, “সভাপতি নাহিদুল খান একক সিদ্ধান্ত গ্রহন ও দলকে নিজস্ব সম্পত্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার উদ্দেশ্যে সংগঠনের একটি অংশকে কাউন্সিলে ডেকে এনে যে নির্বাচন করেছেন সেটা সংগঠন বহির্ভুত। দোকানের কর্মচারী ব্যবসায়িক পার্টনার ও আপন ভাই ভাবী, বোন দুলাভাই, ভাগ্নে ভাগ্নী পরিবারের সদস্যদের কাউন্সিলে সদস্য না হওয়া সত্বেও তাদেরকে হাজির করিয়ে বিএনপিকে এককভাবে সম্পত্তিতে পরিনত করছেন সভাপতি নাহিদুল। যেকারনে সম্মেলনে বিএনপির আংশিক সভাপতি নাহিদুল খান সাহেলের একক সিদ্ধান্তের কারনে ক্ষিপ্ত জর্জিয়াবাসি হামলা ও ভাংচুর ঘটনা ঘটাতে পারে, এই আশংকায় অবশেষে পুলিশ প্রশাসনের সহযোগিতায় উত্তেজনার মধ্য দিয়ে আংশিক ফর্মালিটি সম্পন্ন করা হয়েছে সেদিন। এই কারনে জাতীয়তাবাদী দল, জর্জিয়া চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।”

মোহাম্মদ রহমান আজাদ

মোহাম্মদ রহমান আজাদ অনলাইন পোর্টালে প্রকাশিত জর্জিয়া বিএনপির নির্বাচনের খবরের প্রতিবাদ করে বলেন, “সকলের সদয় আবগতির জন্য অবশেষে বলতে বাধ্য হচ্ছি যে, মি: সাহেল (আংশিক সভাপতি) কোন নির্বাচিত সভাপতি নন, আমি নির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক। অথচ তিনি অনির্বাচিত সভাপতি হওয়ার পর থেকেই আমার পিছনে লেগেছেন এবং জাতীয়তাবাদী দলকে বিভক্ত করে ছেড়েছেন। আমরা শত চেষ্টার পরেও সমঝোতা আনতে পারি নাই যা সত্যিই দুখঃজনক।

নির্বাচন কমিশন প্রকাশিত তফসিল অনুযায়ী মনোনয়ন পত্র উত্তোলন ও জমা প্রদানের পূর্বে কাউন্সিলারদের লিস্ট প্রকাশের বিষয়টি প্রধান শর্ত ছিল, অথচ মনোনয়ন পত্র উত্তোলন ও জমা প্রদানের কার্যক্রম সম্পন্ন করার পরেও পূর্ণাঙ্গ কাউন্সিলের লিস্ট প্রকাশ করতে পারেন নাই”।

আজাদ তাঁর বিবৃতিতে আরও বলেন, “নির্বাচন কমিশন কর্তৃক কাউন্সিলরদের লিস্টে শুধু সভাপতি স্বাক্ষরিত মনগড়া লিষ্ট তৈরি করা হয়েছে যা সত্যিই দুঃখজনক, যেটি সাংগঠনিক পরিপন্থী বলে আমি মনে করি। তা হওয়া উচিত ছিল নির্বাহী কমিটি কতৃক অনুমোদিত এবং সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের যুগ্মভাবে স্বাক্ষরিত, যার ফলে নির্বাচন কমিশনও বিতর্কিত। মোট কথা আমার সাথে কোন পরামর্শ ছাড়াই মনগড়া কাউন্সিল করা হয়েছে। ফলে আমরা অধিকাংশ সদস্য / সদস্যা কাউন্সিল বর্জন করি। এছাড়া কাউন্সিলে যাদের প্ৰতিদ্বন্দ্বী ছিল, তাদের ভোট হয়েছে, আবার যাদের কোন প্ৰতিদ্বন্দ্বী ছিল না, তাদেরও ভোট হয়েছে। যা মিডনাইট ইলেকশনকেও হার মানিয়েছে ও হাস্যকর করে তুলেছে। এইসব মনগড়া ও অনিয়মের বিরুদ্ধে আমরা তীব্র প্রতিবাদ ও নিন্দা জানাই”।

নির্বাচন বর্জনকারী বিএনপির একাংশ

মোহাম্মদ রহমান আজাদ আরও উল্লেখ করেন, “আপনারা কয়েকজন ব্যক্তি দীর্ঘদিন যাবত জর্জিয়া বিএনপিকে দ্বিধাবিভক্ত করে রেখেছেন এবং কেন্দ্র থেকে নেতা আসলে তাদেরকে বিভিন্নভাবে ভুল বুঝিয়ে পিছন দরজা দিয়ে সফল হয়েছেন, যা সত্যিই ন্যক্কারজনক ঘটনা। আমরা এই ঘটনার প্রতিবাদ করায় আমরা আজ একটি গ্রুপে পরিনত হয়েছি, কিন্তু জর্জিয়া বিএনপিকে নিয়ে যারা দীর্ঘদিন যাবত নোংরামী করছে তাদেরই জয় হয়েছে। তাই সকলের প্রতি অনুরোধ, আসুন উদার মানসিকতা নিয়ে জাতীয়তাবাদী দলকে আরো শক্তিশালী করি এবং সকলে একসাথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করি।”

আরও সংবাদ
error: Content is protected !!