সর্বশেষ

মানবাধিকারের নারী নেত্রীদের “না ” বলুন

440

‏প্রিয় মুখে অপ্রিয় কথা

( মানবাধিকারের নারী নেত্রীদের” না ” বলুন )

জুয়েল সাদাত

 

এম সি কলেজ নিয়ে একটা সিঙ্গেল শো করেছিলাম, জালালাবাদ টিভিতে ৪৪ মিনিট। একাই নানা তত্ব উপাত্ত দিয়ে সেই শো-টা অনেক জনপ্রিয়্তা পেল। ৭ হাজার ভিউ ২৫ হাজার রিচ করল। সেটার কিছু ফলোআপ দেয়া দরকার। এত আসামী পুলিশ ধরল, কোন প্রেস ব্রিফিং করল না। RAB এ-র সাফল্যের কোন মিডিয়া ব্রিফিং নেই। কার ফোনের সাহায্য এতা গুলো আসামী ৭২ ঘন্টার মাঝে ধরা পড়ল। সেই প্রশ্নের  উত্তর না দেবার জন্য্।

গত দশ দিনে দেশ ব্যাপী ধর্ষনের উ্যসব চলছে। খবরের পর খবর, দেশ বিদেশের নাগরিকদের মাঝে হতাশা বিরাজ করছে। সুশিল সমাজের নারী নেত্রীরা দালালিতে যতটা পারদর্শী, নারীর নায্য দাবীতে তারা ততটাই  নিশ্চুপ।। সুলতানা কামাল  গংরা টিভিতে তেলেগু মুভি দেখছেন হিন্দি ডাবিং এ।

ব্যারিষ্টার মইনুল হোসেন একজন নারী সাংবাদিককে “চরিত্রহীন ধরে নিতে পারি” বলার পর, এই কৌশলী নারী নেত্রীরা সারা হোসেন, নুজহাত, মুন্নি সাহা, সুলতানা কামাল গং রা  সাংবাদিক সম্মেলন করে প্রভাব খাটিয়ে ব্যারিষ্টার মইনুল হোসেনকে জেল খাটালেন।

আজ এম সি কলেজে গৃহবধু ধর্ষন, নোয়াখালিতে গৃহবধূর নির্যাতন সহ সারা দেশে মহামারি আকারে নারী নির্যাতনে তারা নিশ্চুপ। তাদেরকে সবাই ধিক্কার দিচ্ছেন। গতকাল হাইকোর্ট ও তাদের তিরষ্কার করেছে।

বলেছিলাম আমার শো ‘তে জঙ্গি দমন, ইভ টিজিং, এসিড ছোড়া বন্ধ করা গেছে। এই ধর্ষন ও বন্ধ হবে।। সরকারের পাশাপাশি সামাজিক ভাবে প্রতিরোধ করতে হবে।

হবে না, এটা আমরা মানি না। সবই সম্ভব। পুলিশ যদি লাইনে থাকে। পুলিশ এক সপ্তাহ ভাল থাকলে পরের সপ্তাহ রুপ বদলায়। ধর্ষনের বিরুদ্ধে দেয়াল লিখতে দেয় না। মিছিল করতে দেয় না।। পশ্চিম পাকিস্তানের ষ্টাইলে দমন নিপিড়ন চলছে। ভয়ে কথা বলে না কেউ । এ রকম কেন হবে ?  অনেকে বলে জুয়েল ভাই, আপনার মতো আমরা সাহস করে লিখি না বা লিখতে চাই না, আবার  ভয় ও  পাই। আমি তো এই সরকারকে পছন্দ করি, তাই বলে কি সরকারের সমালোচনা করব না।

যে সরকার স্বপ্নকে বাস্তবে রুপ দেয় বা দিতে পেরেছে তারা কেন ধর্ষন -দুর্নিতী বন্ধ করতে পারবে না। সেটা বুঝতে আমার সময় লাগে। বিশ্বের কাছে যে দেশটি রোল মডেল, কে মানে সেটা বড়ো কথা  না -আমরা বিদেশে টের পাই। সেই দেশ কেন পারবে না সুশাসন দিতে। কেন পারবে না, ধর্ষনের কঠিন বিচার করতে। সব বিচারক যদি বলেন, আমরা এক মাসে ধর্ষন কেইসের সুরাহা করব। আমরা দুর্নিতীর বিচার শেষ করব দু মাসে।

সব কিছু ই সোজা লাইনে আসবে। আসতে বাধ্য হবে। বিচারিক পক্রিয়ায় যদি দুর্তীনি না হয়। আইনজীবি রা বিচারপতিরা যদি পুরো মাত্রায় দেশ দরদি হন, তাহলে সবাই ঠিক হয়ে যাবে। জামিন  যদি বন্ধ করে দেয়া হয়। সরকারী পিপি,এপিপি  এসপিপি রা যদি কোর্টে  প্রভাব না খাটান, তাহলে দেশ এগিয়ে যাবেই । সিনহার বিচার প্রক্রিয়া, সাগর -রুনি হত্যাকান্ডের মতো অদৃশ্যমান হচ্ছে।

ই ভ্যালীর মতো একটি দুর্নিতী পরায়ন কোম্পানী ৩৭ লাখের টাকা মেরে একদিন উদাও হবে। সেই কোম্পানি বিচারিক  পক্রিয়ায় নির্দোষ প্রমানিত হয়েছে। কতটা কষ্ট, কার জন্য্ হয়েছে সেটা আগে জানিয়েছি। কোন ল’ফার্মে গেলে সব মাপ। খুজে নেবেন।

যাক প্রসঙ্গে ফিরি,ধর্ষন বন্ধ করতে পাড়া মহল্লায় কমিটি করতে হবে। মানব বন্ধন, মিছিল করতে হবে। সামাজিক ভাবেই প্রতিরোধ করতে হবে। সেই রকম দুর্নীতির বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। নারী নেত্রীদের উপর ভরসা করার কোন দরকার নাই। পুলিশ কর্মকর্তাদের  স্ত্রীরা যদি তাদের পুলিশ স্বামীদের বলেন,  ধর্ষনের কেইস টা যেন তারা স্বচ্ছভাবে দেখেন।  নানান রাজনৈতিক দলগুলো সামাজিক অনাচার নিয়ে আন্দোলনের চাপ দিতে পারে। মিছিল মিটিং করে প্রতিরোধ তৈরী করবে দুর্নীতিবাজদের ও ধর্ষকদের বিরুদ্ধে।

এই দেশটা আমাদের। এই সোনার দেশটা ধ্বংসের একটা নীল নকশা কেউ করছে।। বিশ্ব মিডিয়াতে রেপিষ্ট কান্ট্রি হিসাবে বিতর্কিত করার নীল নকশা  বাস্তবায়নের দ্বারপ্রান্তে।

শেখ হাসিনার সব অর্জন ম্লান করে দিতে চাচ্ছে কেউ। সেটা অনেকেই বুঝতে পারছেন না। আওয়ামী লীগকেই এর উত্তোরন খুজে বের করতে হবে। স্বরাষ্ট্র্রমন্ত্রী একজন দীর্ঘদিন একই মন্ত্রনালয়ে সেখানে পরিবর্তন জরুরী। বেনজির সাহেবকে ও কোন বিদেশের দূতাবাসে পাঠানো জরুরী। কারন দীর্ঘদিন এক কাজ করলে, কাজে গতি থাকে না। নতুন মানুষ দরকার। মন্ত্রী যারা আছেন, তারা কতজন কাজ করেন সেটাও দেশবাসী বুঝে না। তাদের ও জবাবদিহিতা জরুরী। একজন মন্ত্রী আ স ম রেজাউল কাজ করতে চাইলেন গনপুর্ত মন্ত্রনালয়ে ভাল মানুষটাকে সেখান থেকে তাড়িয়ে দেয়া হল। তিনি গনপু্র্ত মন্ত্রনালয়ের “বালিশ দুর্নীতির” সাথে জড়িত ২৬৭ জনের চাকরী খেলেন। পরে বিদেশে থাকাকালীন  তিনি মন্ত্রনালয় হারালেন।  মাদক নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর জিরো টলারেন্স বন্ধ করে দেয়া হল। আজ ইয়াবার জন্য, নানা মাদকের জন্য এত অনাচার, ব্যাভিচার হচ্ছে সমাজে । কক্সবাজার ,উখিয়া,রাউজান আন্তর্জাতিক মাদকের ট্রানজিট হয়ে গেল। এক প্রদিপ একশ জনকে মেরে ফেললো, তাকে বাঁচানোর জন্য সব চেস্টা করা হচ্ছে।

কি হতে যাচ্ছে?  আমরা কেউ জানি না। যিনি জানেন তিনি উপরে বসে আছেন। আমাদের পরম করুনাময়, তিনি সবাইকে হেফাজত করবেন। আমিন।

 

জুয়েল সাদাত

রাজনৈতিক বিশ্লেষক

আমেরিকা / ফ্লোরিডা

৬ অক্টোবর, ২০২০

 

 

আরও সংবাদ
error: Content is protected !!