সর্বশেষ

131

 

আফসার খান ( সাদেক )

 

হারানো দিন,যাহেদ-সাদেক রানিং গোল্ডকাপ ১৯৮৮ সাল, চারাবই মাঠ (বররতল)
আমার বয়স আমার ভাই যাহেদ যিনি আমাদের লাল ভাই,শেওলা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আমার চাইতে বয়সে ২/৩বছরের বড়। দুই ভাই’ই বিয়ানীবাজার কলেজের ছাত্র এবং দুইজনই ছাত্রলীগ কর্মী ছিলাম। বড় ভাইরা লন্ডনে মেজ ভাই বাড়িতে , ছোট ভাই(খুকন সকলের বড়,ডাকতাম ছোট ভাই) ব্যাবসা করতেন বৈরাগী বাজারে , আর আমাদের সকলের ছোট ভাই মিজান সে ও বিয়ানীবাজার কলেজে । একদিন লাল ভাই যাহেদকে বললাম গ্রামের লোকজন বলছে একটা খেলা ছাড়তে চলো না দিয়ে দেই গোল্ড কাপ ফুটবল খেলা তোমার আর আমার নামে উনি বললেন গোল্ড এতো দামী কি ভাবে ম্যানেজ করবে আমি বললাম আম্মার “বালা”এখনতো পরেন না নিয়ে নিবো, আম্মা বুজবেন না আমি জানি আম্মার আলমারির চাবি কোথায় রাখেন ? লাল ভাই বললেন No way আম্মা বুজলে মেরে চামড়া তুলে ফেলবেন আমি বললাম বুজবেন না, এমন পলিছি করবো যেন বালা হারিয়ে গিয়েছে , লাল ভাই না আমি না , তাহলে কি করবো আমার স্বর্ণের চেইন আমি দিয়ে দিবো ২/৩তোলা ওজন বললেন সত্যি দিবে বললাম জি দিবো । কথা ফাইনাল । আমি সোনা দিবো । আর বাকি খরছ দুই ভাইয়ের পকেট মানি থেকে বাচিয়ে দিবো । সব পাকাপোক্ত , গ্রামের মানুষজন বিশেষ করে জনাব কমর উদ্দীন, গিয়াস উদ্দীন, নাসির উদ্দীন,সাইব উদ্দীন,আং মালিক, মুদরিছ আলী,ময়না মিয়া, আং সালাম, মাতাব উদ্দীন , মলুমিয়া ,রেনু মিয়া, গেনু মিয়া, লুৎফুর রহমান,আং মুইদ, মুসল্লি মিয়া,আপ্তাব উদ্দীন ,বদরুল হক , টুনু মিয়া, মুতি মিয়া, ওয়াহীদ আলী,শফিক উদ্দীন, লনি মিঁয়া,হেলাল মিয়া , মাতাব মিয়া, মায়া মিঁয়া,আং সালাম , মমনুন, নানু, আংআহাদ, আবুল, সালিক মিয়া সহ তখনকার আমাদের বয়সী ছেলে পেলেদের নিয়ে আলোচনা ফাইনাল খেলা হবে আমরা পুরস্কার দিবো আর উনারা তত্বাবধানে থাকবেন ,কোন গন্ডগোল কেউ করতে পারবে না । খরছ আমাদের আমরা খুশিতেই স্বায় দিলাম ।গ্রামের মুরব্বী যুবক শক্ত অবস্হানে সুন্দর পরিচালনা কমিটি করলেন। ভলান্টিয়ার সাব্যস্ত করলেন , দিন তারিখ, পোস্টারিং সবই হলো । ধারাবিবরনি আমাদের এক অনুজ সিরাজ সে ও বিয়ানীবাজার কলেজে পড়ে ।

রেফারী কসবার মতিন মিয়া আমাদের গ্রামের দুলাভাই কোনদিন কানাকড়িও নেন নি, আমাদের ইসলাম ভাই নিজের খরছে এসে খেলা পরিচালনা করেছেন, তুতা, ইসলাম ভাই, যাহেদ,কোন খরছ ছাড়াই এরা কৃতিত্বের সহিত পরিচালনা করেছেন ,কৃতজ্ঞ এই সব মানুয়ের কাছে , আজ আর এই দিন নাই ।

খেলায় মোট ১৪টিম আংশগ্রহণ করেছিল প্রত্যেক খেলায় হাজার হাজার দর্শক । আর ফাইনাল খেলা হয়েছিল “চারঁখাই একাদশ বনাম শ্রীধরা একাদশের মধ্যে চারখাই ১-০গোল্ জয়লাভ করে । চারখাইয়ের পক্ষে খেলেছিলেন সিলেট জেলার টপ খেলোয়াড়রা শুধু লকেল ছিলেন হেলাল, মামুন চৌধুরী,পারভেজ ।আর শ্রীধরার পক্ষে বিয়ানীবাজারের সুপারস্টার’রা আলম, নাদির, কাশেম, শাহেদ,লিটন,সফর, কয়েছ, মস্তুফা ।
ধন্যবাদ প্রিয় কাশেমকে ছবি দিয়ে পুরনো স্মৃতি মনে করিয়ে দেবার জন্য। আজ আমার মিজান এই দুনিয়াতে নেই , পুতুল ভাই , হেলাল বিজরবাড়ী,নেই আরো যারা নেই তাদের আত্মার শান্তি কামনা করছি। আর আমরা যারা আছি এই দুনিয়ায় আল্লাহ সকলকে নেক হায়াত এবং সুস্ত শরিরে বাঁচিয়ে রাখুন ।
ছবিতে আমি খেলোয়াড়দের সাথে পরিচয় পর্বে।

 

আফসার খান সাদেক

রাজনীতিবিদ, সমাজ সেবক

(বহিঃবিশ্বে বঙ্গবন্ধুর মুরাল এ-র উদ্যেক্তা)

আরও সংবাদ
error: Content is protected !!