সর্বশেষ

বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস উপলক্ষে যুক্তরাষ্ট্র বঙ্গবন্ধু পরিষদের আলোচনা সভা

126

স্বীকৃতি বড়ুয়া, নিউইয়র্কঃ যুক্তরাষ্ট্রে যথাযথ মর্যাদা ও গুরুত্বের সাথে যুক্তরাষ্ট্র বঙ্গবন্ধু পরিষদের উদ্যোগে গত ১০ জানুয়ারি বিকেল চারটায় সারগর্ভ আলোচনার মধ্য দিয়ে পালিত হল সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালী, স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস।

উক্ত ভার্চুয়াল আলোচনা সভায় সংগঠনের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা ডঃ নুরুন নবীর সভাপতিত্বে জুম কনফারেন্সের মাধ্যমে প্রধান অতিথি হিসেবে অংশগ্রহণ করেন যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সভাপতি ডঃ সিদ্দিকুর রহমান এবং বিশেষ অতিথি ছিলেন সংগঠনের উপদেষ্টা ও বাংলাদেশ লিভারেশন ওয়ার ভেটারেন্স ১৯৭১ ইউএসএ ইনক-এর  সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা গোলাম মোস্তফা খান মিরাজ।

আলোচনা সভায় যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্য থেকে নেতৃবৃন্দরা অংশগ্রহণ করেন। সংগঠনের  যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক স্বীকৃতি বড়ুয়ার পরিচালনায় আলোচনা সভার শুরুতেই জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, মহান মুক্তিযুদ্ধে সকল শহীদ, ১৯৭৫ সালের ১৫ আগষ্ট ও ৩ নভেম্বরে নিহত সকল দেশপ্রেমিকদের বিদেহী আত্মার প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।

সভাপতির বক্তব্যে বীর মুক্তিযোদ্ধা ডঃ নুরুন নবী স্মৃতিচারণ করে বলেন, “১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারির বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ভাষণটি মঞ্চের খুব কাছ থেকেই শোনার সুযোগ আমার হয়েছিল, যেটা আমার জীবনে একটি স্মরণীয় দিন।‘

আবেগ আপ্লূত কণ্ঠে তিনি বলেন, “বঙ্গবন্ধু দেশে এসেই রাষ্ট্রপতির পদ ছেড়ে প্রধামন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণ করে দেশ গড়ার লক্ষ্যে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছিলেন। তবে জাতির যে ঐক্য তিনি গড়েছিলেন, বিভিন্ন ষড়যন্ত্রের কারণে সেই ঐক্যে ফাটলের সৃষ্টি  হয় এবং পরবর্তীতে গভীর ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে মেজর রশিদ ও মেজর ফারুক বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যা করে। কিন্তু এদের পিছনে যেসব দেশী বিদেশী ষড়যন্ত্রকারী ছিল,  আজও তাদের পরিচয় আমাদের অজানাই রয়ে গেলো। আমি দাবি জানাই একটি জাতীয় কমিশন গঠন করে সেই দেশী বিদেশী ষড়যন্ত্রকারীদের নাম পরিচয় উদ্‌ঘাটন করে জাতীর কাছে তা প্রকাশ করা হোক।“

প্রধান অতিথির বক্তব্যে ডঃ সিদ্দিকুর রহমান বলেন, “বঙ্গবন্ধু বিশাল একটি বিষয়, যেটা অনেক গবেষণার দাবি রাখে। আমরা যারা সেই বঙ্গবন্ধুর আদর্শের রাজনীতি করি, আমরা সত্যিই গৌরবান্বিত। সেই বঙ্গবন্ধুর কন্যা মাননীয় প্রধামন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশকে ২০২১ সালে মধ্যম আয়ের দেশ এবং ২০৪১ সালে উন্নত-সমৃদ্ধ দেশে পরিণত করতে অক্লান্ত পরিশ্রম করে যাচ্ছেন, আসুন আমরা সবাই সকল ভেদাভেদ ভুলে জননেত্রীর নির্দেশে জাতির জনকের স্বপ্ন সোনার বাংলা গড়ার লক্ষে কাজ করে যাই।“

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বীর মুক্তিযোদ্ধা গোলাম মোস্তফা খান মিরাজ বলেন, “স্বাধীনতার পরে আমরা অনিশ্চয়তায় ছিলাম বঙ্গবন্ধু ফিরবেন কিনা। বঙ্গবন্ধু  যদি ফিরে না আসেন তাহলে আমাদের কি হবে, বঙ্গবন্ধু ছাড়া এই সদ্য স্বাধীন বাংলাদেশের কি হবে- এমন শঙ্কায় ছিলাম আমরা। অন্যদিকে মহান মুক্তিযুদ্ধের পর তখনও আমাদের পাশে ছিলেন যিনি, যার কাছে বাংলার মাটি ও মানুষ সবচেয়ে ঋণী তিনি ছিলেন শ্রীমতি ইন্দিরা গান্ধী। বঙ্গবন্ধু নিজেই তার ভাষণে বলেছিলেন ইন্দিরা গান্ধী এবং ভারতের জনগণের ঋণ আমরা শোধ করতে পারব না। কিন্তু স্বাধীনতার এতো বছর পরেও যারা আজ ভারতের বদনাম করে, ভারতের নাম সহ্য করতে পারে না, জননেত্রী শেখ হাসিনাকে ভারতের সাথে আপোষকারী বলে বদনাম ছড়ায়, তারা হচ্ছে পাকিস্তানপন্থি, তারা কখনোই বাংলাদেশের উন্নয়ন চায় না। তাদের বিরুদ্ধে সোচ্চার হতে হবে আমাদের সকলের। বঙ্গবন্ধুর কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনা যখন বাংলাদেশকে উন্নয়নের শিখরে নিয়ে যাচ্ছেন, তখন সেইসব স্বাধীনতা বিরোধীরা নানা ষড়যন্ত্র করে যাচ্ছে।“

সভায় অন্যান্য বক্তাদের আলোচনায় জাতির জনক একটি স্বপ্নময় বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখে ছিলেন বলে উল্লেখিত হয়। এছাড়া বঙ্গবন্ধু বাঙালি জাতিকে মাথা উঁচু করে বীরের বেশে বেঁচে থাকার শিক্ষা দিয়ে গেছেন বলেও অনেকে দৃঢ়তার সাথে উচ্চারণ করেন।

বক্তারা বলেন, “আমাদেরকে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের অনুপ্রেরণাকে কাজে লাগিয়ে অর্থনৈতিক মুক্তি লক্ষ্যে স্বপ্নময় বাংলাদেশ হিসেবে রূপান্তরিত করতে জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে কাজ করে যেতে হবে।“

সভায় বক্তব্য রাখেন যুক্তরাষ্ট্র বঙ্গবন্ধু পরিষদের উপদেষ্টা যথাক্রমে এম এ সালাম (নিউজার্সি) ও সাংবাদিক হাঁকিকুল ইসলাম খোকন, সহসভাপতি আব্দুর রহমান বাদশা, সদস্য শেখ আতিকুল ইসলাম, সাবেক সাধারণ সম্পাদক কলামিস্ট শীতাংশু গুহ, বীর মুক্তিযোদ্ধা ইঞ্জিনিয়ার আব্দুর রহমান, বঙ্গবন্ধু পরিষদ ক্যালিফোর্নিয়া শাখার সাধারণ সম্পাদক রানা মাহমুদ, জর্জিয়া শাখার সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুর রহমান ভুঁইয়া, পেনসিলভেনিয়া শাখার সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আবু তাহের বীর প্রতীক ও সাধারণ সম্পাদক কাজী শামিম, গ্রেটার ওয়াশিংটন শাখার সভাপতি দস্তগির জাহাঙ্গীর, সাধারণ সম্পাদক নাসরিনা আহাম্মদ, যুগ্ম সাংগঠনিক সম্পাদক মামুনুর রশিদ, শিক্ষা ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক মোহাম্মদ নাজমুল রতন এবং দপ্তর ও প্রচার সম্পাদক মোহাম্মদ আল আমিন হোসেন, ডঃ দেলোয়ার হোসেন (আলাবামা), মেগি হালিম (টেক্সাস) প্রমুখ।

সবশেষে আয়োজক সংগঠনের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক রাফায়েত চৌধুরী তার আলোচনায়  সকল সদস্য ও অতিথিদেরকে সভায় অংশগ্রহণের জন্যে আন্তরিক কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন।

 

 

আরও সংবাদ
error: Content is protected !!