সর্বশেষ

মিশিগানে কনসুলেট স্থাপনের দাবী উপেক্ষিত,  হার্ড লাইনে যাবেন মিশিগানবাসী

78

জুয়েল সাদাত

মিশিগান থেকে ফিরে –

আমেরিকার মধ্যে নিউইযর্কের পর লারজেষ্ট বাংলাদেশী অধ্যুষিত ষ্টেট মিশিগান। মোটর সিটি খ্যাত মিশিগান সব সময়ই বাংলাদেশীদের মধ্যে জনপ্রিয়্ ছিল, আছে আজও। নিউ ইয়র্কের পর যে নামটি বাংলাদেশীদের মাঝে সবচেয়ে জনপ্রিয় তা হল মিশিগান ডেট্রয়েট।  আমেরিকা বলতে নিউইয়র্ক এর জ্যাকসন হাইটস, ব্রনস, জ্যামাইকা,কুইনস, নিউজার্সির পেটারসন, মিশিগানের ডেট্রয়েট ই বুঝায় অনেকের কাছে।

আমি বছরে দুই বার যাই মিশিগান ২০১৩ সাল থেকে, বাংলাদেশী ও সিলেটিদেরর সাথে দেখা করার জন্য। ফ্লোরিডায় দেশী মানুষ কম সেই তুলনায় মিশিগান এ বেশী। মিশিগানের বাংলাদেশীদের সংখ্যা ২৫ হাজার থেকে পৌনে এক লাখে চলে গেছে।

মিশিগানের হ্যামট্রামিকের কাউন্সিলম্যন মোহাম্মদ  হাসান কে জিঙ্গেস করেছিলাম, বাংলাদেশীর সংখ্যা কত জানালেন ৭০ হাজারের কম বেশী।

গত ২০২০ এর কোরোনাকালিন সময়ের কারনে সেখানে আরও দশ  হাজারের আগমন ঘটেছে নিউইয়র্ক, টেক্সাস, ক্যালিফোর্নিয়া থেকে।  অনেকেই চলে এসেছেন সহজ জীবনযাত্রার শহর ডেট্রয়েটে। নিউ ইয়র্কে ত্রিশ বছর থাকার পর, আজ কোভিড পরবর্তি সময়ে অনেকেই আজ মিশিগানে।

মিশিগানের জনসংখ্যা ৯৯ লাখ, মিশিগানের বাংলাদেশীরা যেখানে থাকেন হ্যামট্রামিক সিটির জনসংখ্যা ২১ হাজার যার পুরোটাই বাংলাদেশীদের নিয়ন্ত্রনে, সেখানে ডেট্রয়েট এর জনসংখ্যা ৩৫ লাখ ৪৫ হাজার ডেট্রয়েট – হ্যামট্রামিক রাস্তার এপাশ ওপাশ। ওয়ারেনের জনসংখ্যা ৪৫ ৭২২ জন্,  যার অর্ধেক বাংলাদেশী। কমিউনিটি কেন্দ্রিক বাংলাদেশী অধ্যুশিত শহরটায় সারা কমিউনিটিতে চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে। কোন যুক্তিতে ফ্লোরিডা কনসুলেট পাচ্ছে কেউ হিসাব মেলাতে পারছেন না।  আমি ফ্লোরিডা থাকি আর কনসুলেট ফ্লোরিডা, প্রথমে আমাকে অভিযোগ দিলেও আমি যখন বলি মায়ামীতে কনসুলেট হবে, সেটা আমার সেন্ট্রাল ফ্লোরিডা থেকে সাড়ে তিন ঘন্টার দুরত্বে। তখন তারা বুঝতে পারেন। কমিউনিটি নেতা জোবারুল ইসলাম চৌ খোকন, কাউন্সিলম্যান্ মোহাম্মদ হাসান, সাবেক ছাত্রনেতা মোশারফ হোসেন লিটু, বিজনেস এসোসিয়েশনের সুফিয়ান কোরেশী, সিলেট সদর সমিতির মোরশেদ আহমদ, স্টেট আওযামী লীগের সভাপতি চান মিয়া, কমিনিটি একটিভিষ্ট ও সংবাদকর্মী বিয়ানিবাজার এর সুলতান জে শরিফ, কনাইঘাট এসোসিয়েশনের জাকারিয়া রহমান,গোয়াইনঘাট এসেসিয়েশন এর হেলাল আহমদ, আই টি স্পেশালিষ্ট কুলাউড়া এসোসিয়েশনের মোহাম্মদ হাসান সহ সকলেই মর্মাহত মিশিগানের মত একটি জনবহুল বাংলাদেশী কমিউনিটিতে পররাষ্ট্র্রমন্ত্রীর আশ্বাসের পরও কনসুলেট ফ্লোরিডা চলে যাওয়াতে।  জোবারুল ইসলাম খোকন জানান, মিশিগানে বেশীর ভাগ ইসিগ্রান্ট নতুন আসেন, তাদের সিংহভাগ বাংলাদেশী পাসপোর্ট -তাই কনসুলেটের সবচেয়ে বেশী কাজ এই  শহরে হয়ে থাকে, তারপরও কেন মিশিগানকে পাশ কাটানো হল।  মিশিগানে মাত্র ১৫ মাইলের মধ্যেই সিংহ ভাগ বাংলাদেশী বসবাস করেন, তাই কনসুলেটের সুবিধা ভোগ করতে পারবেন ৪০/৫০ হাজার প্রবাসীই। মিশিগানে কনসুলেট হলে বাফেলোবাসী সুবিধা পাবেন বলর জানান, জলসা রেস্টুরেন্টের এক্সিকিউটিভ শেফ ফজলুল আমিন। এমাজানে কর্মরত মোনা জানান, মিশিগানে কনসুলেট হলে আমাদের সুবিধার শেষ নাই। মহিলারা অনেক ভোগান্তি থেকে বেচে যেতেন।

দীর্ঘদিন থেকেই নানান ভাবে মিশিগান প্রবাসীরা কনসুলেটের স্থায়ী অফিসের দাবী জানিয়ে আসছেন।  মিশিগান এক্সপ্রেস নামের একটি জনপ্রিয়্ ফেসবুক পেইজের মাধ্যমে ২০১৯ সালে ১৪ হাজার সিগনেচার সংগ্রহ করা হয়েছিল আলাউদ্দিন রেষ্টুরেষ্টে। ঠান্ডা উপেক্ষা করে উপচে পড়া ভিড় হয়েছিল। উদ্বোক্তা ছিলেন নাজেল হুদা নামের একজন কমিউনিটি একটিভিষ্ট ও তার কয়েকজন সহযোগী। সেই সিগনেচার ঠিক জায়গায় পৌছালো কিনা সেটা নিয়ে সন্দেহ দানা বেঁধেছে। কনসুলেট সার্ভিস চালু, অতি স্পর্শ কাতর এই জন দাবীটা যোগ্য নেতৃত্বের অভাবে মুখ থুবড়ে পড়েছে। প্রায় পঞ্চাশ টি নানান নামের সংগঠন থাকলেও যে কোন কারনে ইউনিটি খুজে পাওয়া যাচ্ছেনা মিশিগানে। যে শহরে বাংলাদেশ এভিনিও নামে একটি সড়ক রয়েছে, সেখানে স্থায়ী কনসুলেট কেন হবে না, এই হিসাব অনেক সাধারন নাগরিকের প্রশ্ন।  অতি সম্প্রতি একজন হিন্দু ভদ্রলোক একটি মুলধারার লাইব্রেরীতে বাংলাদেশ লাইব্রেরী প্রতিষ্টা করেছেন মিশিগানে। সেই মিশিগানে বর্নমালার একটি বিশালাকার সাইনবোর্ড রয়েছে। সেই কনাট ষ্ট্রিট ( বাংলাদেশ এভিনিউ)  এর কর্নারে জাতির জনকের দুটো স্থাপনা রয়েছে, সেখানে প্রবাসীদের নানা সহযোগীতার জন্য্ কনসুলেট কেন থাকবে না।

কাউন্সিলম্যন হাসান একমত হন,পররাষ্ট্র্রমন্ত্রী,বিমান মন্ত্রী,  প্রবাসী কল্যান ও কর্মসংস্থান্ত্রী সিলেটের হওয়ারর পরও প্রবাসীদের ভোগান্তি কমছে না। এই কম্বিনেশন জীবনেও আর সিলেটবাসী পাবে না। হ্যামট্রামিক, ওয়ারেন তথা মিশিগানের ৭০ হাজার প্রবাসীর মধ্যে ৬৫ হাজারের বেশী সিলেট বিভাগের প্রবাসী। সেই হিসাবে পররাষ্ট্র্রমন্ত্রী আমেরিকায় বসবাস করে গেছেন দীর্ঘদিন, সেখানে দাবী কেন তুলা হবে,মোমেন সাহেব স্ব উদ্যেগেই কনসুলেটের অফিস স্থাপন করে দিতে পারেন। এই কনসুলেটের প্রয়োজনীয়তা শিকাগোর অনারারি কনসাল জেনারেল মনির চৌধুরী জানেন। মিশিগান প্রবাসীদের একটি প্রতিনিধি দল সামারে বাংলাদেশে গিয়ে পররাষ্টমন্ত্রীকে প্রেসার দেবার দাবি উঠেছে। ফ্লোরিডার মায়ামীতে কনসুলেট সার্ভিস অফিস পুরো ফ্লোরিডার নাগরিকদের সুবিধা দিতে পারবে না ভৌগলিক কারনে। তবে মিশিগানে মাত্র ১৫ মাইলের মধ্য প্রবাসীরা এই সুবিধাটা পাবেন।

আটলান্টাবাসীও কনসুলেটের আশায় ছিলেন। আটলান্টা জর্জিয়াতে প্রায় পঞ্চাশ হাজার প্রবাসী বসবাস করেন। তারাও চাচ্ছিলেন কনসুলেট জর্জিয়াতে যাবে। কনসুলেট মিশিগান ও জর্জিয়াতে নতুন অফিস স্থাপনের যুক্তিকথা রয়েছে।  পররাস্ট্র মন্ত্রনালয় অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ঘনবসতিপুর্ন মিশিগানে  কনসুলেট এ-র  সম্ভাবতা যাচাই করবেন, এ দাবী সবার।

আরও সংবাদ
error: Content is protected !!