সর্বশেষ

সরকার চালায় কে?

139

‎জুয়েল সাদাত

 

সরকার চালায় কে?

প্রধানমন্ত্রী বা তার প্রেস সচিব রা হয়ত দৈনিক কাগজ পড়েন না। দুর্নিতীর বিরুদ্বে জেহাদ ঘোষনা কেন হচ্ছে না।
মাঝে মাঝে তিনি হতাশ হয়ে বলেন, পাঁচ কেজি চালের লোভ যারা সামলাতে পারেন না, তাদের জন্য ঘৃনা। সেটা বলেন, ছোট রাজনীতিবিদদের জন্য্। আমলারা কি করে সেটা উনাকে কেউ বলে না। 

প্রথম  আলোর একজন সাংবাদিক নন, রোজিনা ইসলাম সারা বাংলাদেশের সাংবাদিকদের আইকন।

কভিডের এই ক্রান্তিলগ্নে প্রধানমন্ত্রী সবচেয়ে বেশী যে মন্ত্রনালয়ের জন্য্ টাকা বরাদ্ব করছেন, সেটা স্বাস্থ্য মন্ত্রনালয়। সেখানের টাকার হসপিটাল দিনে উধাও হয়ে যায়। স্বাস্থ্য মন্ত্রী পরিবর্তন হবার কথা বছর খানেক আগেই। সেটা হল না। স্বাস্থ্য মন্ত্রনালয়ের দুর্নিতী অসহনীয় পর্যায়ে। করোনা অনুদানের টাকায় তারা কানাডায় ও গুলশানে বাড়ী কিনে / এফ ডি আর কিনে।
সাবরিনা কান্ড সহ অনেক ঘটনা ঘটছে। সেখানে রোজিনা ইসলাম একাই লড়ে গেছেন। যাচ্ছেন।

যিনি গলা চেপে ধরেছেন, তিনি একজন অতিরিক্ত সচিব। নাম, কাজি জেবুন্নেসা বেগম। উনার স্বামী আরো দাপটের পরিরকল্পনা মন্ত্রনালয়ের সচিব শুনেছি ।

একজন ফুল সচিব স্বামী আরেকজন অতিরিক্ত সচিব স্ত্রী জেবুরন্নেছা। সুপার পাওয়ার দম্পতি। পরিকল্পনা মন্ত্রনালয়ের সততায় পুর্ন মন্ত্রিটাকেও হয়ত জেবুর স্বামী ডুবাচ্ছে।

এই দুই আমলাকে কিভাবে সামাল দিবে সরকার অনেক কঠিন সময়ে সরকার । পুলিশ গতকাল দেখলাম অসহায়। উপর, অনেক উপর, আকাশের উপরের নাকি জানিনা তাদের নির্দেশের অপেক্ষায়।  সারা দেশের সাংবাদিক সমাজকে বৃদ্বাঙ্গলী দেখাচ্ছে। সাংবাদিকরা শো ডাউন করেছেন। কারন রোজিনা ইসলামের রিপোর্ট গুলো সবাইকে আন্দোলিত করত।

দেশের শীর্ষ ব্যা্ক্তি তারেক সিদ্দিকীই পারবেন সমাধান দিতে। কিভাবে স্বাস্থ্য মন্ত্রনালয় রিফর্ম করা যায়।

আমি প্রথম আলোর সাথে তার শুরুর দিন থেকে। এখন আমরা উত্তর আমেরিকায় প্রথম আলোর সাথে। তাই রোজিনা ইসলাম আমাদেরই লোক। আদর্শিক সাংবাদিকতার বরপুত্র্।

প্রথম আলোর একজন সিনিয়র সাংবাদিক হেনস্তা  হলেন। গতকাল থেকে হতাশায় আমি। যে সরকারকে নিয়ে বুক ফুলিয়ে দিন রাত কথা বলি। কোন এক অপশক্তি সরকারের শত শত ভাল কাজগুলো ম্লান করে দে নিমিষেই। ভাল কাজ ঢাকা পড়ে যায় ছোট খাট ঘটনায়।

বসুরন্ধরা নিয়ে কেউ লিখল না। ভাল সাংবাদিকতা মিউজিয়ামে। মানবকন্ঠ এর সম্পাদক দুলাল আহমদ চৌধুরী আরেকজন সাংবাদিকতার আইকন, প্রতিদিন বসুন্ধরা নিয়ে সিরিয়াল করে যাচ্ছেন।

® ধন্যবাদ রোজিনা ইসলাম ও দুলাল আহমদ চৌ কে, আপনারাই আদর্শ।

অতিরিত্ব সচিব  জেবুন্নেসা বেগম থেকে হয়েছেন, কাজী জেবুন। অনেক বড়ো দুর্নিতীবাজ। এই সব দুর্নিতীবাজদের কয়েকটা বিশেষ ট্রাইভুনালে বিচার করে যাবজ্জিবন দিতে পারলেই। দেশটা সরলরেখায চলে আসত।।

সেটা শেখ হাসিনাই পারবেন। উনাকে বোঝাতে হবে।। দুর্নিতী উন্নয়ন পাশাপাশি হাঁটে না।

রোজিনা ইসলামের প্রতি  জেবুন্নেছা যে আচরন তিনি করেছেন, একজন নারী আরেকজন নারীকে মারছেন। নারীর ক্ষমতায়ন কাকে বলে?
তার গলা চেপে ধরার কৌশলও খুবই পেশাদারী।
তিনি এক হাতে মোবাইল ঠিক রেখে আরেক হাতে যেভাবে গলা চেপে ধরে রেখেছেন, মারামারিতে দক্ষ মনে হয়েছে।

( সিলেটের ইলেকট্রনিক্স জার্নালিষ্ট এসোঃ এর মানববন্ধন)

হয়তো সবসময় তার হাত খুব কর্মমুখী থাকে।
আর সেটা না হলে একজন অতিরিক্ত সচীবের কীভাবে কানাডায় ৩ টি, পুর্ব লন্ডনে ১ টি এবং ঢাকায় ৪টি বাড়ী, গাজীপুরে ২১ বিঘা জমি আছে। এছাড়া নামে-বেনামে আছে ৮০ কোটি টাকার এফডিআর।

তবে রোজিনা ইসলামের বিরুদ্ধে সরকারি নথি চুরি অভিযোগ এবং এই গলা চেপে ধরার বিষয়টা মেলাতে বেশ ঘাম ঝড়াতে হবে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে।

ঢাকায় যখন মেট্রোরেল নামে তখন আমরা বিদেশে বসে এর জন্য্ ( এই আমি) সুখের গল্প শোনাই।
আবার যখন হসপিটাল উধাও হয়ে যায়। তখন মুখ লুকাই। মেট্রোরেল ও উধাও হয়ে যাবে।

এই রোজিনা ইসলাম ও জেবুন্নেছা একটা ইন্সিডেন্ট মাত্র । সরকার দুর্নিতীর উত্তপ্ত কড়াইতে দিন যাপন করছেন।
প্রধানমন্ত্রী দেশটাকে কোথায় নিয়ে যেতে চাচ্ছেন আরও সচিবরা, আমলারা দেশটাকে লুটেপুটে খাচ্ছে। সব পর্যায়ের আমলারা করছেন দুর্নিতী। রাজনৈতিক স্তবিরতাই এর জন্য্ দায়ী। 

 

রাজনীতি যখন দুর্বল হয়ে যায়, তখন আমলারা শক্তিশালী হয়। আজ সচিবালয়কে বিদেশী কোন কোম্পানীর কাছে লিজ দেয়া উচিত।। অনেকে হয়ত ভাবছেন, আমার মাথা খারাপ। হয়ত তাই। সচিবালয় সহ স্বাস্থ্য মন্ত্রনালয় আর্মি বা নেভীর কাছে ছেড়ে দেয়া উচিত।। আজ পিয়ন রা ড্রাইভাররা শত কোটির মালিক।

অতিরিক্ত সচিব জেবুন্নেছা যেভাবে রোজিনা কে মারধর করেছেন, সেটা সামলাতে পুলিশ উপর মহলের দিকে তাকিয়ে আছে।
সাংবাদিক নেতাদের উচিত আগামী একমাস সরকারের সব নিউজ বয়কট করা।

কোন আপোষ নয়?
প্রধানমন্ত্রী মাদক নিয়ে একবার জেহাদ ঘোষনা করেছিলেন।।এখন দুর্নিতীর বিরুদ্ধে জেহাদ ঘোষনা করুন । একজন রনাঙ্গনের গেরিলা যোদ্বা ডাঃ শিশির আমাকে বলেছিলেন গত মাসে দুর্নিতীর বিরুদ্ধে আমাদের আরেকটি যুদ্ধ করতে হবে।

আসলে রোজিনা ইসলামের ঘটনার মতো আরো ঘটনা ঘটবে। এটা শুরু মাত্র।

একজন মধ্যবয়স্ক মহিলা সিনিয়র সাংবাদিক যদি এরকম সুপার ডুপার নিউজ করতে পারেন, তাহলে পীর হাবিব, নইম নিজাম, মোজাম্মেল বাবুদের কি করা উচিত। তারা হয়ত সরকারী খরছে বিদেশ সফরের তালিকাতে আছেন।।

দিন ফিরবেই। অন্ধকারের পরে আলো আসবেই।

/ জুয়েল সাদাত

১৮ মে / ২০২১
আমেরিকা

 

আরও সংবাদ
error: Content is protected !!