বই ‘ এর গল্প

253
  • জুয়েল সাদত

( এক)  সোনিয়া কাদের – একটি চম্যকার Bangladesh in America বই লিখেছেন। বইটা আমাকে পাঠিয়েছেন। বইটা অসাধারন। বইটা নিয়ে লিখেছি বিস্তারিত।

( দুই)  শামসাদ হুসাম – গত জুলাই মাসের নিই ইয়র্কের আমার স্বজন সমাবেশে এসেছিলেন, আমাকে দেখতে ও সাথে নিয়ে এসেছিলেন একটি মহা মুল্যবান বই। “সিলেটঃ নিবাস বাংলাদেশ ” একটি ঐতিহাসিক দলিল। উনার অনেক বই পড়েছি। এটাই সেরা।
সিলেটের সাহিত্য্যাঙ্গনের বিদগ্ধ জনদের নানা কাহিনী সহ একটি পুর্নাঙ্গ তথ্য বহুল গ্রন্থ। ৪৪০ পৃষ্টার বইটি যে কাউকে জানার পরিধি সম্মৃদ্বি করবে। জালালাবাদ এসোঃ ঢাকা ও নিউ ইয়র্ক এবং হোসনে আরা ফাউন্ডেশন এর পৃষ্ঠপোষকতায় বইটি সর্ব মহলে সমাদ্রিত। বইটি যে কেউ সংগ্রহ করে রাখতে পারেন।

( তিন)  ইব্রাহীম চৌধুরী খোকন – “ডেট লাইন নিউ ইয়র্ক” বইয়ের জনক। কম বই লেখেন। মহামারী করোনার কঠিন সময়ের সাংবাদিকতার চিত্র। বইটি জনপ্রিয়্তা পেয়েছে। ওয়াশিংটন ফোবানায় বইটি দিয়েছিলেন। ২০০ পৃষ্ঠার বইটি তথ্যবহুল, পেন্ডামিকের হারিয়ে যাওয়া দলিল।

(চার)  ইশতিয়াক আহমেদ রুপু -‘ ভালবাসার নিউইয়র্ক” বই লিখে সারা ফেলে দিয়েছেন। নানা কাহিনী শুনাইলেন, বই সবাই কিনছে, মার মার কাট কাট সেল। তারপর কি মনে করে মেইল করলেন। ২৯ ডলারের ঋন। ২০৭ পৃস্টার ৫৭ টি গল্প। ৫৭ টি গল্প পড়ে রিভিও লিখে দিতে উনাকে উল্টা ১০০ ডলার দিতে হবে আমাকে।। দুই মাসের কাজ।। আটকে আছে চুক্তি।

( পাঁচ)  হায়দার আকবর কিরন – লিজেন্ড সাংবাদিক। “জ্যাকসন হাইটস জার্নাল ” / ‘ সেভেন ট্রেন ও কিছু পুরোনো প্রেমের গল্প” বইয়ের জনক।
ওয়াশিংটন ফোবানায় দেখা। চারটি বই হাতে নিয়ে ঘুরছিলেন। জর্জিয়ার সিনেটর শেখ রহমান ও আমাকেই বই গুলি দিলেন। বললেন আপনি আমার বই সৌজন্য পাবার যোগ্যতা রাখেন। অনেক আনন্দ বোধ করলাম।

( ছয়)  ডক্টর সেজান মাহমুদ – আমার শহরে থাকেন।” ডোম ” নামে একটি সিনেমা বানিয়ে হিট। “অপারেশন জ্যাকপট” নামের বহুল প্রশংশিত বই লিখেছেন। নাটক লিখেন। লিজেন্ড রাইটার। আশির দশকে দেশ কাঁপিয়েছেন। অনেক বই লিখেন। উনার অনেক বই আমাকে গিফট করলেন। ২০২২ সালে ও ৪ টি বই আসছে। শখে গান করেন, ম্যাডিকেলের শিক্ষক। গান, কবিতা, গল্প, প্রবন্ধ সবই চলে এক সাথে। উনার বই আমাকে পাঠান সব সময়।

( সাত)  ফরহাদ হোসেন – টেক্সাস থাকেন । চিনতাম না। ওয়াশিংটন ফোবানায় মুক্তধারা থেকে উনার ‘স্বপ্নজাল” বইটি কিনলাম। বিশ্বজিত দা বলেন, কেন বইটি কিনলাম ? বললাম উনার বইটি সিনেমা হয়েছে। ভাল লেখক তবে চিনি না। তারপর যোগাযোগ হল, তিনি আরো বই পাঠালেন। আমার রিপোটিং এর প্রশংসা করেন৷ আমরা চম্যকার বন্ধু হয়ে গেলাম। “এবং একদিন হঠাত” বই পেলাম মেইলে সম্প্রতি। সিনেমা বানান। চম্যকার মানুষ। ক্রিয়েটিভ মানুষ।।

( সাত)   মওলানা আব্দুর রশিদ – জুলাই মাসে অনুষ্টানে আসতে পারেন নি৷ একদিন ওজন পার্কে দেখা করলেন। অনেক কিছু জোর করে খাওয়ালেন। তারপর দুটো বই দিলেন। প্রায়ই বই মেলে পাঠান। পরিশ্রমী লেখক ও সাংবাদিক। “ইসলামের বুনিয়াদী শিক্ষা ” ও “মসজিদ ভিত্তিক সমাজ ব্যবস্থা” বই গুলো প্লেনেই পড়ে ফেলেছিলাম।

( আট ) ডা নুরুল আমিন – ফ্লোরিডায় থাকেন। “অদ্ভুত এক আধার “ও “মুক্তিযুদ্ধের ডায়েরী” সহ অনেক বই লিখেছেন। রিটায়ার্ড ডাক্তার, কি মনে করে এখন নানা অনুষ্টানে ফ্রি বই বিতরন করেন।। এ রকমটি হওয়া উচিত। বাসায় না রেখে বই কিছু বিলি করলে অনেকেই পড়তে পারে।

(নয়)  নিমপিয়া পাবলিকেশন- প্রকাশক আমাকে পররাস্ট্রমন্ত্রী এ কে মোমেনের “বাংলাদেশ একুশ শতকের পররাষ্ট্র্রনীতি” ও একাত্তর বিজয়ের সেই.. ” সি এ তারেক রেজার বই দিলেন। নিমপিয়া পাবলিকেশন বাংলাদেশের ভিন্ন ধরনের প্রকাশনায় জড়িত। তাদের প্রকাশনার মান বিশ্বমানের।

( দশ)   ডক্টর জিল্লুর রহমান খান – তিনি বর্তমানে নেই। পলিটিক্যাল সায়েন্সের পন্ডিত ছিলেন। আমার প্রিয় একজন স্যার। অনেক বই লিখেছেন,আমাকে অনেক পছন্দ করলেও জীবিত অবস্থায় কোন বই দেন নি আমাকে। উনি মারা যাবার পরে উনার পুরো লাইব্রেরীর একটি অংশ আমার নিকট চলে আসে। উনার সংগ্রহের অনেক বই ছিল। স্যার একজন গবেষক ছিলেন।

( এগার) ক্রেটিসের বিশ্বকোষ, গীতবিতান আমার সংগ্রহে এ বছর

বই আমাকে পিছু ছাড়ছে না। আপনি যা যাইবেন তাই আপনার সম্মুখে চলে আসবে। এটাই নিয়ম। আপনি নেশা করলে নেশা খোর আপনার বন্ধু হবে। আপনি বই পছন্দ করলে বই নিত্যসঙ্গী হবেই।

( বার)  ডক্টর নুরুন নবী, একুশে পদকপ্রাপ্ত লেখক। মুক্তিযুদ্বের উপর অনেক বই লিখেছেন। একজন বহুমাত্রিক গবেষক। অনেক গুনি মানুষ। নিউ জার্সির একটি সিটির ৪ বারের কাউন্সিল ম্যান ৷ মুলধারার রাজনীতিদ ও ফোবানার ফাউন্ডার।।
উনার বই নিযে গবেষনা হবে একদিন । গতকাল জানালেন আমাকে বই পাঠাচ্ছেন।

( তের)  মুক্তধারা নিউ ইয়র্ক বই মেলা সংকলন – বিশ্বজত সাহা। নিউ ইয়র্ক বই মেলা উত্তর আমেরিকার সবচেয়ে কালারফুল বই মেলা। বিশ্বজিত সাহা  বইয়ের আন্তর্জাতিক ফেরিওয়ালা। অসাধারন কিছু কাজ করেন আমেরিকায়। আমাকে চম্যকার একটি সংকলন দিলেন। আমার সাথে চম্যকার সুসম্পর্ক বিদ্যমান। উত্তর আমেরিকার সব লেখকদের সমন্বয় করে থাকেন। 

( শেষ)

দেশের নতুন প্রজন্মের অনেকের বই আমার সংগ্রহে। অনেককে উ্যসাহ দিতে বই কিনে দেশে সংগ্রহ করি। ২০/২৫ কেজি বই আমার শিপমেন্টের অপেক্ষায়। বই হউক জীবনের সহযাত্রী। যতই সোস্যাল মিডিয়া ব্যাপক প্রভাব বিস্তার করুক, তারপরও বই  পড়ার আনন্দ অন্যরকম।

 

আরও সংবাদ
error: Content is protected !!