টেক্সাসের বান্টের নির্বাচনে হাসমত মোবিন সভাপতি, সাইদ সেক্রেটারী

101

 

জুয়েল সাদত 

৩৭ তম ফোবানার  হোস্ট সংগঠন বান্ট এর নেতৃত্ব নির্বাচন সম্পন্ন। 

নর্থ টেক্সাসের বাংলাদেশিদের অন্যতম বড় সংগঠন বাংলাদেশ এসোসিয়েশন অফ নর্থ টেক্সাস এর নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে গত ১৫ ও ১৬ জানুয়ারী। । তীব্র ঠান্ডা উপেক্ষা করে বিপুল পরিমান ডালাস ও ফোর্ট ওয়ার্থসহ আসে পাশের বিভিন্ন শহর থেকে বিপুল পরিমানে বাংলাদেশিরা তাদের পরিবার নিয়ে দারুন উৎসাহ উদ্দীপনার মধ্যে দিয়ে এই নির্বাচনে স্বতস্ফুর্ত ভাবে অংশগ্রহণ করেন।

বান্ট এর নির্বাচন নিয়ে টেক্সাস এর পুরো কমিউনিটি জেগে উঠেছিল কয়েকটি মাস।  উত্তর আমেরিকায় টেক্সাসের বান্ট একটি মর্যাদাশালী সংগঠন। ৯৫০ জন ভোটারের মধ্যে সর্বোচ্চ ৭৭৪ টি ভোট কাষ্ট হয়। বৈরী আবহাওযাকে পাশ কাটিয়ে নজির বিহীন শান্তিপুর্ন দুই দিনের নির্বাচন একটি অনন্য্ উদাহরন সৃষ্টি করছে আমেরিকায়৷ 

নির্বাচনে ভোটারদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। আমেরিকায় এবার প্রথম কোন কমিউনিটি সংগঠনের নির্বাচন দুই দিনে অনুষ্ঠিত হয়। 

প্রথম দিন  আরভিং শহরের হিল্টন গার্ডেন ইন এ ৩ জন নির্বাচিত ইলেকশন কমিশনার, ৪ জন নিরপেক্ষ অবজার্ভার ও ৮ জন নতুন প্রজন্মের ভলান্টিয়ারসহ ডালাস কাউন্টি শেরিফ ও একজন পুলিশ অফিসার এর উপস্থিতিতে সুষ্ঠু ভাবে উৎসব মুখর পরিবেশে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। প্রঁথম দিনের কাষ্টিক ভোট কাউন্টি শেরিফ অফিসে সংরক্ষিত ছিল। 

ডালাস কাউন্টি  এলেক্সিস হোটেলে দ্বিতীয় দিন ১৬ জানুয়ারি ভোট অনুষ্ঠিত হয়েছিল।  যাতে ডালাস ও টেক্সাসের সকল নাগরিক ভোটাররা ভোট থেকে বিরত না থাকেন তারজন্য এই ব্যবস্থা ছিল বলে জানান টেক্সাসের বান্টের একজন ভলান্টিয়ার রানা ওয়াদুদ। 

বান্ট নর্থ টেক্সাসের একমাত্র সংগঠন যারা প্রতি দুই বছর অন্তর কার্যকরী পরিষদের সদস্যদের নির্বাচনের মাধ্যমে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াই নির্বাচিত করে থাকেন।

এবারের নির্বাচনের দুইটি প্যানেল মবিন-সাইয়েদ ও লুতফুর রহমান -কাজী প্যানেল প্রতিন্দিতা করলেও অপপ্রত্যাশিত ভাবে লু রহমান -কাজী প্যানেল নির্বাচনের ২ দিন আগে নির্বাচনে অংশ না নিয়েই বিনা ভোট নিজেদের কে বিজয়ী ঘোষণা করার অভিযোগ পাওয়া যায়।

কমিউনিটির সবাই এ ধরণের অগণতান্ত্রিক মানসিকতাকে প্রত্যাখ্যান করে পুর্ব নির্ধারিত নির্বাচনের তারিখ জানুয়ারির ১৫ ও ১৬ তারিখে বিপুল ভাবে সাড়া দিয়ে গনতন্ত্র ও তাদের ভোটের অধিকার কে সমুন্নত রাখেন সবাই।

ভোট গ্রহন শেষে ১৬ জানুয়ারী সন্ধ্যায় ডালাস কাউন্টি ইলেকশন এডমিনিস্ট্রেটরের মাধ্যমে তিন জন নির্বাচন কমিশন এই নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণা করেন।

সভাপতি পদে জনাব হাসমত ভোট পান ৭৭৪ টি, নিকটতম প্রতিদন্ধি লুতফুর  রহমান ৫৭ টি, ভাইস প্রেসিডেন্ট সামসুদ দোহা সাগর ৬৬৭ টি, নিকটতম প্রতিদ্বনন্ধী  নাহিদা আলী ডেইজী  ৬৭, সাধারন সম্পাদক সাইদ হাসান চৌধুরী ৭৫৭, নিকটতম প্রতিদ্বন্ধি কাজী ইসলাম ৫৭,ট্রেজারার ফায়াজ আরিফ ৭২১ নিকটতম প্রতিদ্বন্ধি খালিদ শাহনেয়াজ  প্রিন্স ১০৩, কালচারাল শেখ রাশেদ লেমন ৭১৬, নিকটতম প্রতিদ্বন্ধি নাফিস হোসাইন ৮৭, এসিসটেন্ট জেনারেল সেক্রেটারী মুশফিকুর রহমান সায়েম ৭৫২ নিকটতম প্রতিদ্বন্ধী মনসুর চৌধুরী ৬৪, আর্গানাইজেশন সেক্রেটারী  মুনির হোসেন ৭৫৫ নিকটতম প্রতিদ্বন্ধী মোাহম্মদ রশিদ পিন্টু ৬৫, এক্সিকিউটিভ মেম্বার দুজন পাশ করেছেন, জেসমিন ওয়াহিদ ( রুপালী ) ৭৩৮ ও রেজাউর রহমান ৬৪৯ তাদের নিকটতম প্রতিদ্বন্ধীরা পান মিজানুর রহমান লিটন ১৩৪ ও সানা শেখ ৬৩। মোট ভোট বাজেয়াপ্ত হয় ৯২ টি।

বান্টের নির্বাচনের একটি চম্যকার দিক ছিল, ১৮ বছরের উর্ধের যে কেউ নর্থ টেক্সাসের কাউন্টিগুলোর বা সিটির বাংলাদেশী নাগরিকরা আইডি দেখিয়ে সাথে সাথে ভোট দিতে পেরেছেন৷ কোন সদস্য্ ফি নবায়ন বা ভোটার লিষ্টের  জটিলতা ছিল না 

বান্ট এর নির্বাচনে সহ সভাপতি পদে সংগঠক  নাহিদা আলী ডেইজী ও কাজী চৌধুরী স্বামী – স্ত্রী একে অপরের সাথে প্রতিদ্বন্ধীতা করেন, দুজনই জয়লাভ করতে পারেন নি। দুজনের একই পদে প্রার্থিতা নানা গুঞ্জনের সৃষ্টি করে৷  আগামী ৩৭ তম ফোবানার হোস্ট করছে বান্ট, তাই বান্টের নেতৃত্ব নিয়ে নীরব -সরব প্রতিযোগীতা ছিল সর্বত্র।

সভাপতি হাসমত মোবিন একজন দক্ষ সংগঠক হিসাবে পুরো প্যানেল নিয়েই পাশ করেছেন। হাসমত মোবিন নির্বাচন পরবর্তি তার প্রতিক্রিয়ায়  জানান,সকলের সাথে মিলে মিশেই কাজ করব। বান্টকে নতুন করে সাজানো ও ৩৭ তম সফল ফো্বানাই আমাদের প্রধান কাজ। সকলের সহযেগীতা কামনা করি। 

নির্বাচনে মবিন-সইয়েদ প্যানেলের সকলেই বিজয়ী হয়েছেন। নির্বাচিতরা হলেন প্রেসিডেন্ট- হাসমত মুবিন, ভাইস প্রেসিডেন্ট- শামসুদ্দোহা সাগর, জেনারেল সেক্রেটারী- সাইয়েদ হাসান চৌধুরী, ট্রেজারার- ফায়েজ আরিফ, কালচারাল সেক্রেটারী- শেখ রাশেদ লিমন, এসিস্টেন্ট জেনারেল সেক্রেটারী মুশফিকুর রহমান সিয়াম, অরগানাইজিং সেক্রেটারী- মোঃ মুনির হোসাইন টিপু, এক্সিকিউটিভ মেম্বার- জেসমিন ওয়াদুদ রুপালি ও মোঃ রেজাউর রহমান।

নব নির্বাচিত সদস্যরা ২০২২ -২০২৩ সালের ব্যান্ট কার্যকরী পরিষদের দায়িত্ব বুঝে নিবেন। 

আরও সংবাদ
error: Content is protected !!