একজন  জেনারেলের সাথে একজন অ -জেনারেলের কথা 

76

 জুয়েল সাদত  

  • উনার সাথে আমার কোন আনুষ্টানিক পরিচয় ছিল না হয়ত আমরা দুজন লেখালেখি করি তাই পরিচয় একদিন সিলেট আড়ংএ উনার সাথে দেখা,সম্ভবত ২০০৭ বা ২০১৩ মনে করতে পারছিনা পরিবার সহ তিনি সিডি দিয়ে নামছিলেন নিজে কথা শুরু করলাম, গোলাম সাদত জুয়েল  সাংবাদিকতা করি আমেরিকার ফ্লোরিডায় থাকি সাথে সাথে বিনয়ী মানুষটা চিনলেন  বলে মনে হল আরও বিনয়ি হয়ে বললেন, আপনার ওখানে আসছি আমি আমার কাড দিয়ে বললাম যোগাযোগ করবেন ব্রিগেডিয়ার জেনারেল জুবায়ের সিদ্দিকী একজন সত্যিকার নিরেট ভদ্রলোক।

এই আমাদের কথা মালা। লেখক লেখকের সাথে পরিচয় হয়, কালো কালির অক্ষরে তা অনেকেই জানেন না ঠিক তেমনি এই অবসরপ্রাপ্ত বিগ্রডিয়ার জেনারেল কেও আমি চিনি অনেক দিন থেকে তিনিও হয়ত এই অখ্যাত লেখককে চিনেন সেই সুবাধে । আমাদের যেমন নির্মলেন্দু গুন কে খুব আপন মনে হয় , আবেদ খান, আনিসুল হককে বা জাফর ইকবালকে আপন মনে হয় একই ধারায় । জুবায়ের সিদ্দিকীর লেখা ও সাহিত্য আমার চেনা পথ । তিনি আবার  বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ হিসাবে ও সুপরিচিত । সেলিম আওয়াল মেসেজ দিলেন, উনার ৭০ বছর পালন হবে । লিখতে হব, আমেরিকার ব্যস্থ সময়ে তারিখ সময় হিসাব করে লেখা অনেক কষ্টের । অনেকের আবেদন অনুরোধ রাখা যায় না , শুধুই সময়ের বিড়ম্বনায় ।  জুবায়ের সিদ্দিকীর প্রতি একটা ভারী দুর্বলতা ছিল, আছে । তাই ছোটবোন লেখিকা  বিথীকে জানতে চাইলাম, সময় আছে কিনা । বলল-দিয়ে দেন । আপনার জন্য জায়গা থাকবে । কি  লিখব, একটি বড় ক্যানভাসের মানুষকে ছোট দু পৃষ্টায় কোথায় বসাই । আবার আমি খুব কাছাকাছি ছিলামও না । তবে যারা বড় কাজ করে তাদের সব কিছুতেই একটা ছাপ থাকে । তাই গুনির কদর তাকে মৃত্যুর আগে দিতে পারলে ভাল । মরার পর শোক সভায় কান্না কাটি করলে কি তিনি দেথবেন । বা তাদের কফিনে বড় ১০০০ টাকার ফুলের তোড়া দিলে কি তিনি তা বুঝবেন । কত বড় তোড়াটা ছিল । উনার ৭০ বছরের এই মহেন্দ্রক্ষনে , মনে হচেছ তিনি সার্থক পুরুষ । তার জন্য ফুলের ঢালি নিয়ে আমরা বসে আছি দেশে বিদেশে । 

 

 

দুই )

ব্রিগেডিয়ার জেনারেল জুবায়ের সিদ্দিকী,এন.ডি.ইউ./ পি.এস.সি./এম.ডি.এস. (অবঃ) ১৯৪৯ সালে সিলেট জেলার ওসমানী নগরের পাঁচ পাড়া গ্রামে এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। উনার সাথে আমার একটি মিল হল, তিনি এইডেড হাই স্কুল ও এম সি কলেজের ছাত্র ছিলেন । আমিও এ দুটি শিক্ষা প্রতিষ্টানের ছাত্র । ‍উনার সাথে আমার আরেকটি বিষয় মিল তিনি চার টি বই লিখেছেন , আমারও চারটি বই প্রকাশিত হয়েছে । যদিও আরও কয়েকটি বের হবার পথে । তিনি কলাম লেখেন, আমিও কলামিষ্ট পরিচয় দিতে সা্চ্ছন্দ বোধ করি । সিলেট শিক্ষাঙ্গনে নতুন আলোচিত বিদ্যাপীঠ স্কলার্স হোম স্কুল এন্ড কলেজ প্রতিষ্ঠাতা প্রিন্সিপাল। তিলে তিলে আজ এই বিদ্যাপীঠ যে বড় হয়ে উঠেছে তার কৃতিত্ব বহুলাংশে এই ব্রিগেডিয়ার জেনারেল জুবায়ের সিদ্দিকী নিতেই পারেন বললেও অত্যুক্তি হবে বরং এটি জনাব সিদ্দিকী প্রাপ্য। কলামিস্ট জুবায়ের সিদ্দিকী আমাদের প্রতিনিয়ত জাগ্রত করুন তার লেখনীতে কারন একাধারে তিনি কলম যোদ্ধা, সাহিত্যিক , শিক্ষক ,সংগঠক, পন্ডিত ও সহজ সরল মানব । তিনি বিচরন করেছেন কঠিন সামরিক অঙ্গনে যেমন ঠিক তেমনি ১৯৯৯ সালের অবসরের পর তিনি তার পরিধিকে ছড়িয়ে দিয়েছেন নানা আলোয়  । তিনি মুক্তিযোদ্বে অংশ গ্রহনের সুযোগ পান নাই , চেষ্টা করেও ব্যার্থ হয়েছেন , ছিলেন দুবছর পাকিস্থানের নানান জায়গায়  বন্দি । ৭৩ সালে বাংলাদেশে ফিরে বাংলাদেশের নতুন সেনাবাহিনী পুন গঠনে সহযোগীতা করেন । সেনাবাহিনীতেও ছিল তার সফলতার স্বাক্ষর । অবসর গ্রহনের পর অনেকেই হারিয়ে যান । কিনতু তিনি নতুন এক ফোর ষ্টার জেনারেল হিসাবে আবার আত্বপ্রকাশ করেন, সিলেটের শিক্ষা বিস্তারের হিন্দু জমিদারদের প্রাধান্য ছিল , যার স্বাক্ষর সারা সিলেটের সব শিক্ষা প্রতিষ্টানে । সেখানে হাফিজ আহমদে মজুমদার এক অনন্য মানব । সেই হাফিজ আহমদ মজুমদার সিলেটে তৈরী করেন স্কলার্সহোম , মাত্র ২৯ জন ছাত্র আর মাত্র জন শিক্ষক নিয়ে ২০০২ সালে সেপ্টেম্বর, যাত্রা শুরু করেছিলাম স্কলার্সহোমের। তারপর আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয় নি। সেই স্কলাসহোম এর মুল কারিগর বা প্রেরনা বা যার হাত দিয়ে বিকাশ ঘটে তিনি ই আমাদের জুবায়ের সিদ্দিকী । আজ ৬ টি শাখা নিয়ে সিলেটের শিক্ষায় অনন্য বাতি জালাচেছ  স্কলার্সহোম । স্বল্প মধ্যবিত্তদের জন্য ইংরেজী মাধ্যমের স্কুল স্কলার্সহোমে । এই স্কুলের সুনামের পেছনের কারিগরই আমাদের শ্রদ্বেয় শিক্ষাবিদ ব্রিগেডিয়ার জেনারেল জুবায়ের সিদ্দিকী,এন.ডি.ইউ./ পি.এস.সি./এম.ডি.এস. (অবঃ) । 

একনজরে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল জুবায়ের সিদ্দিকী কিছু কর্মময় জীবন ১৯৬৭ সনে চাকুরী শুরু করে কমান্ড স্টাফ কলেজ কোর্স ১৯৮০, কর্নেল হিসেবে ১৯৯০৯১ সালে অপারেশন ডেজার্ট স্টর্ম অংশগ্রহণ, ব্র্রিগেডিয়ার জেনারেল হিসেবে নয়াদিল্লিতে ডিফেন্স এটাচি ১৯৯৩৯৮, চেয়ারম্যান বাংলাদেশ টিবোর্ড ১৯৯৮৯৯ এবং অত:পর ৩২ বছরের পেশাগত জীবনের সফল পরিসমাপ্তি শেষে ১৯৯৯ সনে অবসরে চলে আসা।
তারপর বিভিন্ন সামাজিক সাহিত্য সংস্কৃতির সুকুমার চর্চায় আলোকিত বিচরণ! এখন দিনসন্ধ্যা কেটে যায় লায়ন্স ক্লাব, ধুমপান বিরোধী, নিরাপদ সড়ক, দরীদ্রের জন্য শিক্ষা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটি এসব সংগঠনে। এরমধ্যে তিনি সভাপতি হিসেবে দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটি সিলেট বিভাগের শ্রেষ্ঠ কমিটির পুরস্কার গ্রহণ করেন ২০১৩ সালে এবং সর্বোপরি বাংলাদেশের সাহিত্য অঙ্গনের উজ্জ্বল প্রতিষ্ঠানকেমুসাস’-এর সহসভাপতি এবং এই কর্মযজ্ঞ চালিয়ে যাচ্ছেন নিরন্তর।

(তিন ) 

বাংলাদেশের মানুষের গড় আয়ু হিসাবে তা ৬৮ বছর এর মধ্য খুব কম মাানুষ সুযোগ পায় তার জীবনের পুরোটা কে কাজে লাগাতে আমরা নানা ভাবে জীবনের পুরোটা বিলিয়ে দিতে পারিনি জুবায়ের সিদ্দিকী তার জীবনের সেরা সময়টা্ই দেশ মাতৃকায় কাজে লাগানের সুযোগ পেয়েছেন এবং খুব ভালভাবেই তার পুরোটাই তিনি সদ  ব্যবহার   করেছেন শিক্ষার আলো ছড়ানোর সুযোগটাই তিনি কাজে লাগিয়েছিলেন। তারপর  একদিন অনেক কাজ বাকি ফেলে আমাদের ছেড়ে চলে গেলেন। 

আমার কাছে মনে  হচ্ছে তিনি আছেন।

আলো ছড়ানোয় সচেষ্ট মানুষরা কখনও মাইনাস  হন না । আমরা উনার সুন্দর চিন্তার উত্তরসুরী হিসাবে পিছনে হাটব ছায়া হয়ে।  । 

  জুয়েল সাদাত 

সম্পাদক , প্রবাসের নিউজ

 ফ্লোরিডা / আমেরিকা 

SADAT734@GMAIL.COM

আরও সংবাদ
error: Content is protected !!