সর্বশেষ

আমাদের ক্যারেক্টার সমস্যা ও ছবি কালচার

156

জুয়েল সাদাত, ফ্লোরিডাঃ আমেরিকায় এনডোর্সম্যান্ট খুবই সহজ ব্যাপার। ক্যাপিটাল হিলে হামলার পর রিপাবলিকানদের যে সব বড় কোম্পানি ফাইনান্স করত, তারা তাদের সমর্থন ফিরিয়ে নিয়েছে। আগামীতে রিপাবলিকান পার্টি ভয়াবয় অর্থ সংকটে ভুগবে। আমেরিকায় যে কোন নির্বাচনে যে কোন ব্যাক্তি,প্রতিষ্টান বা এসোসিয়েশন ঘোষনা দিয়ে সমর্থন দেয়।
উদাহরন দেই, বাংলাদেশে রোটারি ক্লাব বলতে পারবে না আমরা বিএনপিকে বা আওয়ামী লীগকে সমর্থন করি। সম্ভব না।
অনেক ঝুঁকি র কারনে। আমেরিকায় তা সম্ভব।

বর্তমানে যে কোন নির্বাচনে বাংলাদেশে দেখা যায়, যখন কোন নির্বাচন আসে, সেটা যে কোন নির্বাচন হউক, নির্বাচনের আগে কেউ এনডোর্সমেন্ট বা সমর্থন করে না, কিন্তু নির্বাচনের ফলাফল যখন সন্ধায় প্রকাশ হয়ে যায়, তখনই যিনি জয়লাভ করলেন, তার সাথে যৌথ ছবি প্রকাশ করেন। আরে, বাবা তুমি যদি তাকে পছন্দ করতে তাহলে একটা পোষ্ট দিলেতো সে একশটা ভোট বেশী পাইত। তারপর জয়লাভ করা ব্যাক্তিকে ফুল দেয়ার রেওয়াজ।
আমি ব্যাক্তিগত ভাবে যাকে এনডোর্সমেন্ট করি, শেষ পর্যন্ত তার সাথেই সহমতর্মিতায় থাকি। হার জিত কোন বিষয় না। টু ফেস থাকবে কেন। গোলাপগঞ্জের মেয়র রাবেল কে সবাই ফুল দিচ্ছেন শুনলাম, অথচ তাকে যারা ফুল দিচ্ছেন তারা ভোট ই দেন নি।পাপলুর বন্ধু হিসাবে স্বজন হিসাবে, পোষ্ট দিয়ে জানান দিয়েছি।
যে কোন নির্বাচনে আমাকে অনেকেই কল করেন, আমি এনডোর্সমেন্ট করে থাকি, লবিং করি। ৯০ শতাংশই বেরিয়ে আসেন। পছন্দ করব, কিন্তুু সহযোগিতা করব না, নিরবে দেখব? কে পাশ করেন তারপর তাকে ফুল দিব।।। এই মানুষিকতা থেকে বেরিয়ে আসুন।

দুই
বঙ্গবন্ধু বেঁচতে বেঁচতে যারা দিনরাত পার করছেন।।
যারা কমিটিতে থাকার কাগজ পেয়ে ফেসবুকে পোষ্ট দিচ্ছেন। আবার সামান্য একটি পদ পেয়ে দিন রাত ফুল সম্বর্ধনা নিচ্ছেন। তাদের ফেসবুকে দলের কোন পোষ্ট নাই। শেখ হাসিনা ফ্রি বাড়ি দিলেন, তাদের প্রতিক্রিয়া নেই। শুধু নিজের পদবির বাহাদুরি।

আল জাজিরার নিউজের ব্যাপারে তারা নিশ্চুপ। তারাও একই ক্যাটাগরির -তাদের ধারনা আল জাজিরার রিপোর্টর পর তারেক রহমান দেশে আসবেন, সরকার গঠন করবেন। তাই তাদের বেশি পোষ্ট না দেয়া ভাল।। তাদের নতুন পোষ্টের ভিজিটিং কার্ডটা কবে প্রেস থেকে আসবে, এসপি কে, ডিসি কে কবে দিতে পারব সেই চিন্তা।

একজন নাইমুল ইসলাম খান, একজন আরাফাত রহমান আর আমার কথা নাই বললাম, (টাইম লাইনে প্রমান আছে) যুক্তি তর্কে আমরা মিথ্যার সাথে লড়ে যাচ্ছি, যাব। সিলেটে উপশহরে কমিশনার সেলিম একটা মিছিল করেছেন। ধন্যবাদ, দায়িত্ব থেকে করেছেন।
আমাদের সুবিধাবাদীরা নুন্যতম একটা পোষ্ট দিচ্ছেন না, আজ পুরো ব্যাপারটা নোটিশ করল, শাবির সাবেক ছাত্রনেতা লন্ডনে অবস্থানরত আব্দুর রাজ্জাক।
ছাত্র শি্বির সিলেটে শো ডাউন করে জানান দিল তারা আছে সদর্পে।
আর যে সব আম জনতা ভাবছেন, আল জাজিরার ৭ টি রিপোর্টে সরকার পড়ে যাচ্ছে, তাদের জন্য বলছি। আওযামী লীগ বিএনপি, জামায়াত সহ অনেক দলকেই রাজনৈতিক সাইজ করেছে। উন্নয়নের রাজনীতিতে সবাই কাবু।
ফ্রি ভ্যাকসিন বাংলাদেশীরাই পেয়েছেন অনেক দেশের আগে। বামধারার রাজনৈতিক দলগুলোও নিশ্চুপ, কেন? কারন কৃষকের মুখে হাসি, সারের সংকট নাই, গার্মেন্টেস এ সমস্যা নাই, মজুরী বেড়েছে অনেক।
কাতারের আল জারিরা তার দেশের ইনসাইডের কোন নিউজ করে না, অন্য দেশ গুলো নিয়ে তার মাথা ব্যাথা চরমে।

জাতীয়তাবাদি দল খালেদা জিয়ার জামিনের বিনিময়ে রাজনীতি বিসর্জন ( বন্ধক) দিয়েছেন।
তারা তাদের শক্তি দিয়ে সরকারের সমালোচনা, মিছিল মিটিং, শো ডাউন করতে পারেন, করতে পারতেন। তাদের মেয়র প্রার্থিরা অসহায়, দলের লোক নৌকায় ভোট দিচ্ছে। তাদের ভোট ব্যাংক কমে, তলানিতে।

তিন
শেষ করব, হরতালের সেই চম্যকার স্মৃতি দিয়ে, টানা ৪৮/৭২/৯৬ ঘন্টা হরতাল যারা দেখছেন না, তাদের নিশ্চয়ই মনে আছে কেমন ছিল সেই দিন।
শেখ হাসিনা হরতাল টাই গুম করেছেন।। হাজার হাজার কোটি টাকা বেঁচে গেছে গত ১৩ বছরে।
অর্থনীতিবিদরা টাকা পাচার হয় বলেন। হরতালে কত টাকা বাচঁল সেটা লিখেন না।

(জুয়েল সাদাত/ আমেরিকা)

আরও সংবাদ
error: Content is protected !!