সর্বশেষ

গান্ধী পদকের মর্যাদা ভুলন্ঠিত রক্তার্ত বাংলায়

392

জুয়েল সাদত

বাংলাদেশের বন্ধু প্রতিম দেশ ভারতের জনসংখ্যা ১.৩৮ বিলিয়ন, পাশাপাশি চীনের জনসংখ্যা ১.৩৮ বিলিয়ন। পাশাপাশি বাংলাদেশের জনসংখ্যা ১৬০ মিলিয়ন। বাংলাদেশের মুসলিম জনসংখ্যা ১৫২ মিলিয়ন। পাশাপাশি ভারতের মুসলিম জনসংখ্যা ১৯৫ মিলিয়ন যা বাংলাদেশ থেকে ৪৩ মিলিয়ন বেশী। এই হিসাবের অবতারনা করলাম, বাংলাদেশের কওমি মাদ্রাসার  ভাইয়েরা ভারতের নরেন্দ্র মোদীর বাংলাদেশের সফরকে কেন্দ্র করে যে তান্ডব করেছেন  তা আমার নিকট হাস্যকর মনে হয়েছে।

ভারতে ১৯৫ মিলিয়ন মুসলমান কেমন আছেন, কতটুকু অস্থিতিকর পরিস্থিতিতে আছেন। আমার তেমন জানা নেই, হয়ত আমার সীমাবদ্ধতা। তবে আমাদের কোমলমতি মাদ্রাসার ছাত্রদের কি দিয়ে উস্কে দেয়া হল বোধগম্য্য হল না। ১৪ জন মারা গেলেন এই সহিংস ঘটনায়। কে বা কারা বলা যাচ্ছে না, বি বাড়িয়াতে সম্ভবত জাতির জনকের প্রতিকে আগুন দেয়া হয়েছে, ট্রেন ষ্টেশন ভেঙ্গে ফেলা হল।

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র্ মোদী কেন অনেকের এলার্জি। এত বড় একটি দেশের প্রধানমন্ত্রীকে যে সবার ভালবাসতে হবে, তা বাধ্যবাধকতা নয়। তাই বলে নরেন্দ্র মোদীর সফরকে নিয়ে কওমি মাদ্রাসা গুলো,হেফাজত সহ অন্যান্য ইসলামী দলগুলোকে কে উস্কে দিল।  কেন হঠাত উত্তপ্ত অবস্থার সৃষ্টি করা হল, ভাববার বিষয়।  নরেন্দ্র্ মোদী বাংলাদেশে আসবেন, সেটা গৌরবের আমাদের কাছে। তিনি তার দেশে কি করেন, সেটা তাদের আভ্যন্তরিন বিষয়। উনি কতটুকু জনপ্রিয়্ বা নিন্দনিয সেটা ভারত বাসীর ব্যাপার। আমাদের মৌলবাদী গোষ্টি কেন জেহাদ ঘোষনা করল। এদের পেছনে কোন শক্তি কাজ করছে। ভারত আমাদের বন্ধু প্রতিম দেশ, আমাদের বাংলাদেশের বর্তমান সরকারের সাথে তাদের চম্যকার সম্পর্ক।

 বাংলাদেশের স্বাধীনতার পঞ্চাশ বছরের সুবর্ন জয়ন্তিতে নরেন্দ্র মোদী  বাংলাদেশের সফর করেছেন, বাংলাদেশ কে সম্মান জানাতে ছুটে এসেছেন সব ব্যাস্ততা ফেলে। সাথে নিয়ে এসেছেন ভারতের সবচেয়ে মর্যাদার পদক গান্ধী শান্তি পদক জাতির জনকের জন্য। ভারত সরকার বঙ্গবন্ধুর বর্নাট্য রাজনৈতিক জীবনের জন্য্, বাংলাদেশ সৃষ্টির জন্য্ গান্ধী শান্তি পদকে মনোনীত করেছে। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র্ বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী মুজিব কন্যা শেখ হাসিনা ও মুজিব কন্যা শেখ রেহানার হাতে তুলে দেন। যখন বাংলাদেশ এই সম্মানে ভুষিত হয়েছে ঠিক তখন পুলিশের সাথে সংঘর্ষে ইট পাটকেল মারছে। ধ্বংস করতে চাচ্ছে সরকারি সম্পত্তি। পুলিশ তাদের আক্রমন করছে, ধর্মপ্রান মাদ্রাসার ছাত্র শিক্ষকরা পুলিশকে মারছে। কিন্তুু কেন কওমী মাদ্রাসার ছাত্র শিক্ষক রা রাস্তায়।

মোদী আসলে কেন সমস্যা মাদ্রাসার ছাত্রদের। হরতালের নামে নৈরাজ্য্ কেন হবে?  তাদেরকে কে বা কারা উস্কে দিয়েছে।  ভারতের মুসলমানদের দেখভাল করতে কে তাদের দায়িত্ব দিয়েছে। 

দুই

আমাদের ইসলামী দলগুলোর কাছে নরেন্দ্র্ মোদী ঘৃনিত ব্যাক্তি। হয়ত তারা উনাকে পছন্দ করেন না নানা কারনে। তাই বলে এই মারমুখি আচরন কেন,কেন ১৪ জনকে  প্রান হারাতে হল। পৃথিবীতে আরও অনেক ইসলামী দেশ গুলোতে মুসলিমরা নিগৃত হচ্ছে, সে ভাবে কেউ কথা বলে না। মধ্যপ্রাচ্যে অনেক দেশে মুসলমনা মুসলমানের দ্বারা নির্যাতিত হচ্ছেন প্রতিদিন। সেখানে তারা নরেন্দ্র মোদী থেকেও নিকৃষ্ট। ইসরাইল ফিলিস্তিন সমস্যা সমাধান কয়েক ঘন্টার ব্যাপার যদি মধ্যপ্রাচ্যের ৪৫ টি দেশ এক হয়।

ভারত এর মুসলমানের সংখ্যা ১৯৫ মিলিয়ন   সেটা সংখ্যায় ৫০ টি মুসলিম দেশের জনসংখ্যার সমান। সেখানে নরেন্দ্র মোদিকে ঘৃনা করার কোন কারন দেখি না। ভারতে কি মুসলমানেরা মারা যাচ্ছেন, এমন ভাব দেখানো হচ্ছে নরেন্দ্র্ মোদী একজন হিটলার।   এই তান্ডবে কে কি পেল, কতটুকু দেশের সম্মান বাড়ছে। সরকারি সম্পদ ধ্বংস থেকে বাচাঁতে পুলিশ মারমুখি আচরনে ছিল। পুরো বি  বাড়িয়া মাদ্রাসার ছাত্ররা জ্বালিয়ে দিল। গাড়ি, বাড়ি  জ্বালিয়ে দিল কেন ছাত্ররা।

কোন হত্যাকান্ডই সমর্থন  যোগ্য নয়। আবার মাদ্রাসার এতিম কোমলমতি বাচ্চাদের নানা ভাবে ভুল বুঝিয়ে যারা রাস্তায নামায় তাদের ও বিচারের আওতায় নিয়ে আসা উচিত। কোন বাড়াবাড়ি সমর্থন যোগ্য নেয়। আল্লাহ সীমালঙ্গন কারীদের পছন্দ করেন না। এই ঘটনা গুলোর পেছনের শক্তি খুজতেই হবে। নৈরাজ্য্ সৃষ্টির জন্য একটা ইস্যু খুজে অনেক গোষ্টি। একজন সাবেক ছাত্রনেতা জানালেন ভারতের মুসলিমরা অনেক দেশপ্রমিক। বাংলাদেশ থেকে মনে হতে পারে তারা নিগৃহিত হচ্ছেন। আসলে তা  ঠিক না। তারা তাদের দেশে ভালই আছেন। মাঝে মাঝে  হিন্দু উগ্রবাদী কিছু রাজনৈতিক নেতা সস্তা জনপ্রিয়তার জন্য মুসলিম নিধন, মুসলিমদের বিতারনের হুংকার দেন। তা মিডিয়াতে প্রচারের জন্য। আমাদের মাদ্রাসার ছাত্রদের নানা কারনে মিসগাইড করা হচ্ছে। একটি অপশক্তিই কাজ করছে, গোয়েন্দা সংস্থা পুরো ব্যার্থ।  তারা এই পুরো ঘটনার জন্য্ দায়ী। ডিজিএফআই, এন এস আই, ডিবি কেউ কাজ করছে না। ঠিকমত কাজ করলে এরকম হত না।

তিন

অস্ট্রলিয়ার লিসবন শহর,  লন্ডনের লন্ডন আই সহ বিশ্বের নানা দেশে বাংলাদেশের সুবর্ন জয়ন্তিকে সম্মান জানিয়ে নানা রংযের লাইটিং করেছে। সেখানে বাংলাদেশে নৈরাজ্য করা হল। পুলিশকে মুখোমুখি দাড়াতে হল মাদ্রাসার ছাত্রদের সামনে। তাদের কে নিবৃত করতে কঠোর হতে গিয়ে সব অর্জন নষ্ট হয়ে গেল। স্বরাষ্ট্র্রমন্ত্রী ও পুলিশের আইজির পদত্যাগ করা উচিত। কোন মানুষ দীর্ঘদিন এক জায়গায় থাকলে সে কাজ করতে আগ্রহ হারায়। বেনজির আহমদের চলে যাবার সময় চলে এসেছে। স্বরাষ্ট্র্রমন্ত্রীও একই মন্ত্রনালয়ে আছেন, উনারও ছেড়ে দেয়া উচিত।

বাংলাদেশের বর্তমান এই ঘটনা গুলো ঘটার আগেই আলোচনার সুযোগ ছিল। আগাম জানা যেত?  কি হতে পারে। কোন তথ্যই প্রধানমন্ত্রী পাচ্ছেন না। উনাকে সব কিছু  আড়াল করে রাখা হয়েছিল। উনি অনেক কিছু জানতেই পারেন না।

চার

যারা আওয়ামী লীগের বিশোধগার করছেন। তারা জানেন বা জানেন না। শেখ হাসিনাই সবচেয়ে বেশী মাদ্রাসার ছাত্রদের কওমি ছাত্রদের সুযোগ দিযেছেন। মরহুম মাওলানা শফি বিরাট ময়দানে বলে গেছেন। ইসলামি ফাউন্ডেশন  প্রতিষ্টা করেছেন জাতির জনক। মাদ্রাসার দাওড়াকে এম এ সনদ পর্যায়ে নিযে গেছেন শেখ হাসিনা। হাইকোর্টের সামনের মুর্তি সরিয়েছেন শেখ হাসিনা। সারা দেশে ৪৬০ টি অত্যাধুনিক মসজিদ বানিয়ে দিচ্ছেন শেখ হাসিনা। ইমাম মুয়াজ্জিনদের সরকারি বেতনের আওতায় আনছেন শেখ হাসিনা। সরকারি চাকরি, বিশ্ববিদ্যলয়ে ভর্তি, নানা চাকুরিতে মাদ্রাসার ছাত্ররা অগ্রাধিকার পাচ্ছেন। মসজিদ ভিত্তিক নানা কার্যক্রমের মাধ্যমে মাদ্রাসার শিক্ষকরা জড়িয়ে আছেন। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সরকার বিগত ১৩ বছর মাদ্রাসার উন্নয়নে যুগান্তকারী ভুমিকা রেখেছে। অথচ যে কোন কারনে মাদ্রাসার ছাত্রদের প্রতিপক্ক বানানো হল। তবে সব কিছুই স্বাভাবিক হবে ,নরেন্দ্র মোদী বাংলাদেশ ঘুরে গেছেন। যাদের রক্তে রঞ্জিত হল বাংলাদেশ তারাই বুজবেন কি পেলেন এ-ই জেহাদি ভুমিকায়। বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতি জালিয়ে দেয়া হল, নানা ভাবে জাতির জনকের ছবিকে অপমান করা হল। অনেক কিছু ঘটানো হল যা উচিত হয়নি।  এই মার্চ মাসটাকেই কলংকিত করা হল। যে জাতির জনককে মৌলবাদিরা অপমান করল, সেই জাতির জনককে ভারত সরকার গান্ধী পদক প্রদান করে সম্মানিত করল।

পুলিশ বাহিনী যতটুকু সংযত থাকার তার চেয়ে বেশী ছিলেন। তাদের মানবিক দিক তারা দেখিয়েছেন যতটুকু রাখার। তবে যা ঘটেছে তা  কারও কাম্য ছিল না। সব বাতাস থেমে যাবে  থেকে যায় তার চিহ্ন। পুলিশ কে অনেকেই গালাগালি করছে,করবে। তাদের দায়িত্ব পালনের সংযমের কথা কেউ জানবে না, কেন তারা গুলি করতে বাধ্য হল ।  সেটা অজানাই থাকবে। আল্লাহ সকলকে হেদায়াত দান করবেন। কোন কিছু বাড়াবাড়ি ঠিক না। এই পুরো সহিংসতার কারন উদঘাটন বের করে জড়িতদের আইনের আওতায় আনতে হবে। হাটহাজারী  ও বি বাড়িয়াতে সব সময় সহজেই সহিংসতা ছড়ায়, তাই এ-ই দুই স্পর্শকাতর জায়গায় নজরদারি বাড়াতে হবে। তাহলে আগামিতে অনেক অঘটন কমে যাবে।

জুয়েল সাদাত –

সাাংবাদিক কলাামিষ্ট

ফ্লোরিডা
আরও সংবাদ
error: Content is protected !!